সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ, প্রতিদিন
RAFA24 লোগো

বাংলা: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইংরেজি: Tuesday, 08 September 2026

আরবি: الثلاثاء، ٨ سبتمبر ٢٠٢٦

Header Left Advertisement (320x100)
Advertisement Software Development Service
জাতীয়

জীবনস্বত্ব রেখে হেবা প্রবর্তন শরীয়ত পরিপন্থী: মুফতি আবদুল মালেক।

Ibrahim Bin Rume প্রকাশ: 07 Sep 2026, 06:21 PM 245 views 3 min read
জীবনস্বত্ব রেখে হেবা প্রবর্তন শরীয়ত পরিপন্থী: মুফতি আবদুল মালেক।
জীবনস্বত্ব রেখে হেবা (দান) প্রবর্তন ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ, বাতিল ও কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী বলে ফতোয়া দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব ও মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকার আমীনুত তালীম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির লিখিত জবাবে তিনি এই ফতোয়া প্রদান করেন। ফতোয়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন একটি অপরিবর্তনীয় ও অকাট্য ফরয বিধান। কোনো সামাজিক বা মানবিক অজুহাতে এই ঐশী বণ্টননীতি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
Rafa24-এর পাঠকদের জন্য ফতোয়া ও প্রস্তাবনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রেক্ষাপট ও প্রস্তাবনার বিবরণ
মোঃ আশিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাবনাটি পাঠান। তার চিঠির মূল বিষয়গুলো ছিল:

* মৃত ব্যক্তির পুত্রসন্তান না থাকলে কন্যারা নির্ধারিত অংশ পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ ‘আসাবা’ হিসেবে দূরবর্তী আত্মীয়রা পায়।
* বাস্তব ক্ষেত্রে এসব আত্মীয়রা পরবর্তীতে মৃতের স্ত্রী বা কন্যাদের দেখাশোনা করে না।
* জীবদ্দশায় সাধারণ হেবা (দান) করলে পিতা-মাতা নিজের সম্পত্তির মালিকানা হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
* এই সমস্যার সমাধানে তিনি ‘জীবনস্বত্ব সংরক্ষিত রেখে হেবা’ ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও আয় ভোগ করবেন এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তি চূড়ান্তভাবে কন্যা পাবে।

## ফতোয়ার মূল বক্তব্য ও শরিয়তি বিশ্লেষণ
মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়ার ফতোয়ায় বলা হয়, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত মিরাস আইনের ওপর অন্যায্য সমালোচনা করা হয়েছে। এটি আসাবাকে (নিকটতম পুরুষ আত্মীয়) তাঁদের শরিয়তপ্রদত্ত হক থেকে বঞ্চিত করার একটি অবৈধ চেষ্টা।

* উত্তরাধিকার আইন অপরিবর্তনীয়: পুত্রসন্তান না থাকলে এক কন্যা অর্ধেক এবং একাধিক কন্যা দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ পাবে। অবশিষ্ট সম্পদ ‘আসাবা’ পাবে। এটি কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বিধান, যা পরিবর্তন করার এখতিয়ার কারো নেই।
* সীমা লঙ্ঘনের পরিণতি: আল্লাহর নির্ধারিত বণ্টননীতির বিকল্প খোঁজা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম এবং কুফরির সমতুল্য। পবিত্র কুরআনে মিরাসের বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আজাবের কথা বলা হয়েছে।
* হাদিসের ভিত্তি: রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা মৃতের নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের প্রাপ্য হবে (সহীহ মুসলিম: ১৬১৫)।

## জীবনস্বত্ব সংরক্ষিত রেখে হেবা বাতিল হওয়ার ৪ কারণ
ফতোয়ায় প্রস্তাবিত এই হেবা বাতিল ও অকার্যকর হওয়ার পেছনে ৪টি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

* মিরাস বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য: যে হেবার উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করা, সেই দান স্পষ্ট হারাম।
* হেবার নামে অবৈধ ‘অসিয়ত’: জীবদ্দশায় হেবা করে মৃত্যুর পর তা কার্যকর করার শর্ত দেওয়া মূলত ‘অসিয়ত’। আর ওয়ারিশের (উত্তরাধিকারীর) জন্য অসিয়ত করা ইসলামে সম্পূর্ণ বাতিল।
* দখল বা হস্তান্তরের অভাব (কবযা): ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী হেবা পূর্ণ হওয়ার জন্য গ্রহীতার নিকট সম্পত্তির পূর্ণ দখল ও মালিকানা হস্তান্তর জরুরি। নিজের কাছে দখল রেখে মৃত্যুর পর মালিক বানানোর শর্ত শরিয়ত গ্রহণ করে না।
* স্ববিরোধী শর্ত: হেবা মানেই তাৎক্ষণিক নগদ মালিক বানিয়ে দেওয়া। "বেঁচে থাকতে আয় ভোগ করব, কিন্তু মৃত্যুর পর তুমি পাবে"—এই জাতীয় শর্তযুক্ত হেবা আলেম ও ফকিহদের সর্বসম্মত মতে একটি অকার্যকর প্রক্রিয়া।

ফতোয়ার সমাপনীতে সতর্ক করে বলা হয়, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন একটি ইজমাসম্মত ঐশী বিধান। শাসক বা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আল্লাহর দেওয়া আইন বাস্তবায়ন করা, বান্দার ওপর নিজস্ব তৈরি আইন চাপিয়ে দেওয়া নয়। তাই জীবনস্বত্ব রেখে হেবার মাধ্যমে কন্যাকে শতভাগ মালিক বানিয়ে আসাবাকে বঞ্চিত করার এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ শরিয়তবিরোধী।

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Footer Advertisement (970x90)