ইকামাতে দ্বীন ও তাওহীদ কেন্দ্রিক জীবনের সঠিক রূপরেখা — মুফতী আরিফ বিন হাবিব
Ibrahim Bin Rume
প্রকাশ: 11 Oct 2026, 06:10 AM
20 views
3 min read
ইকামাতে দ্বীন ও তাওহীদ কেন্দ্রিক জীবনের সঠিক রূপরেখা — মুফতী আরিফ বিন হাবিব
প্রশ্ন:
ইকামাতে দ্বীন অর্থ কী?
উত্তর: মূল অর্থ তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন:
জীবন তাওহীদ কেন্দ্রীক?
নাকি হুকুমত কেন্দ্রীক?
উত্তর:
জীবন হবে তাওহীদ কেন্দ্রীক।
‘হুকুমত’ হ’ল পূর্ণাঙ্গ ‘তাওহীদ’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সহায়কমাত্র।
প্রশ্ন:
দ্বীন কী?
উত্তর: আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন, নিষেধাজ্ঞা থেকে বেচেঁ থাকা সবই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন:
সংক্ষিপ্তভাবে দ্বীনের কিছু বিষয় জানতে চাই।
উত্তর: বুখারীর ৫০ নং হাদীস টি দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্ন:
বুখারীর ৫০ নং হাদীসে কি আছে?
উত্তর: একজন আগন্তুক নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে চারটি প্রশ্ন করেছেন।
প্রশ্ন:
আগন্তুকের প্রশ্নগুলো কী কী?
উত্তর: ঈমান, ইসলাম, ইহসান, কেয়ামত সম্পর্কিত মোট চারটি প্রশ্ন ছিল।
প্রশ্ন:
উত্তরের সারসংক্ষেপ কী?
১- ঈমান হলোঃ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস,(ব্যখ্যা করলে আলোচনা লম্বা হবে) ফিরিশতাদের প্রতি বিশ্বাস, আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার প্রতি বিশ্বাস, রাসুলগনের প্রতি বিশ্বাস এবং পুনুরুত্থানে বিশ্বাস।
২- ইসলাম হলোঃ শিরক মুক্ত ইবাদত, নামাজ কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রমজানে রোজা রাখা।
৩- ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন আল্লাহ কে দেখতে পাও, যদিও তুমি তাকে দেখতে না পাও, তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখেন।
৪-কেয়ামত বিষয়ের উত্তর ছিল, এটার খবর জানেন একমাত্র আল্লাহ।
প্রশ্ন:
উপরের বিষয়গুলো যে দ্বীন এটার প্রমাণ কী?
উত্তর:প্রমাণ হাদীসের শেষে রয়েছে...
এরপর ঐ আগন্তুক চলে গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ইনি জিবরীল (আ)। লোকদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।
প্রশ্ন:
তাহলে উপরের বিষয়গুলি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা কে কি বলা হবে?
উত্তর: ইকামাতে দ্বীন তথা ঈমান, ইসলাম, ইহসান, কেয়ামত সম্পর্কিত বিষয়গুলো সবই দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি তালিমুদ্দীন, তালিমুস সালাহ, তালিমুল কুরআন, তালিমুল কায়েদা, তাযকিয়া ইত্যাদি সবই দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন:
উপরের বিষয়গুলি কি দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত নাকি ট্রেনিংয় কোর্সের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: উপরের বিষয়গুলি কে ট্রেনিং বলা মানে দ্বীন কে বিকৃত করা,এটাই আপত্তিকর যায়গা, কেননা বুখারীর ৫০ নং হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখিত বিষয়গুলি কে দ্বীন বলছেন, ট্রেনিং কোর্স বলেননি।
প্রশ্ন:
সাওম, সালাত, হজ্জ, যাকাত এগুলো কে কোন্ ব্যক্তি ট্রেনিং কোর্স বলেছেন।
উত্তর: জনাব আবুল আলা মওদুদী মাগফুর সাহেব এগুলো কে ট্রেনিং কোর্স বলেছেন,
اس عبادت کی حقیقت جس کے متعلق لوگوں نے سمجھ رکھا ہے کہ وہ محض نماز روزہ اور تسبیح تحلیل کا نام ہے اور دنیا کے معاملات سے اس کو کچھ سروکار نہیں، حالانکہ در اصل صوم و
صلاة اور حج و زکاۃ اور ذکر و تسبیح انسان کو اس بڑی عبادت کے لئے مستعد کرنیوالی تمرینات ہیں
উক্ত ইবাদতের তাৎপর্য যার সম্বন্ধে লোকেরা বুঝে রেখেছে যে, ওটা স্রেফ নামায-রোযা ও তাসবীহ-তাহলীলের নাম, দুনিয়াবী বিষয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। অথচ প্রকৃত কথা এই যে, ছওম ও ছালাত, হজ্জ ও যাকাত, যিকর ও তাসবীহ মানুষকে উক্ত ‘বড় ইবাদত’ অর্থাৎ (‘ইসলামী হুকুমত’) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুতকারী ‘ট্রেনিং কোর্স’ মাত্র।
তাফহীমাত (দিল্লি -৬ মারকাযী মাকতাবা ইসলামী, জানুয়ারি ১৯৭৯ ১/৬৯ পৃ)
প্রশ্ন:
দ্বীন বিষয়ে সঠিক সমাধান কে দিবে?
উত্তর: যিনি মুতাফাক্কিহ ফিদ্দীন তিনি।
প্রশ্ন:
মুতাফাক্কিহ ফিদ্দীন বিষয়ে কোন দলিল আছে?
উত্তর: সুরা তাওবার ১২২ নং আয়াত থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝে আসবে।
প্রশ্ন:
ফকীহ আব্দুল মালেক সাহেব জামাত সম্পর্কে যেই কথা বলেছেন সেটা সঠিক হয়েছে?
উত্তর: তিনি জামাতের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন যে এই দ্বীন কায়েমের ব্যখ্যা কি সালাফগন দিয়েছেন? এই প্রশ্ন তো গত ৮০ বছর যাবত চলমান!
প্রশ্ন:
তিনি অন্যদের বিষয়ে কি এমন সোচ্চার?
উত্তর: দ্বীনের বিকৃতি সাধন যাদের দ্বারাই হয়েছে তিনি কাউকে ছাড় দেননি, এমনকি দেওবন্দের একজন উস্তাদের ব্যপারেও তিনি আপত্তি তুলেছিলেন, আহলে ইলমদের নিকট বিষয়গুলি জেনে নিতে পারেন।
প্রশ্ন:
সম্প্রতি একজন বলেছেন, উর্দু কায়েদা পড়ানো ছাড়া আর পারেন কী?
উত্তর: মজার বিষয় হলো উর্দু কায়েদা পড়ানোও দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত।
একটি কথা দিয়ে শেষ করছি
العلم لا يزول بتشكيك المشكك
প্রশ্ন:
ইকামাতে দ্বীন অর্থ কী?
উত্তর: মূল অর্থ তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন:
জীবন তাওহীদ কেন্দ্রীক?
নাকি হুকুমত কেন্দ্রীক?
উত্তর:
জীবন হবে তাওহীদ কেন্দ্রীক।
‘হুকুমত’ হ’ল পূর্ণাঙ্গ ‘তাওহীদ’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সহায়কমাত্র।
প্রশ্ন:
দ্বীন কী?
উত্তর: আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন, নিষেধাজ্ঞা থেকে বেচেঁ থাকা সবই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন:
সংক্ষিপ্তভাবে দ্বীনের কিছু বিষয় জানতে চাই।
উত্তর: বুখারীর ৫০ নং হাদীস টি দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্ন:
বুখারীর ৫০ নং হাদীসে কি আছে?
উত্তর: একজন আগন্তুক নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে চারটি প্রশ্ন করেছেন।
প্রশ্ন:
আগন্তুকের প্রশ্নগুলো কী কী?
উত্তর: ঈমান, ইসলাম, ইহসান, কেয়ামত সম্পর্কিত মোট চারটি প্রশ্ন ছিল।
প্রশ্ন:
উত্তরের সারসংক্ষেপ কী?
১- ঈমান হলোঃ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস,(ব্যখ্যা করলে আলোচনা লম্বা হবে) ফিরিশতাদের প্রতি বিশ্বাস, আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার প্রতি বিশ্বাস, রাসুলগনের প্রতি বিশ্বাস এবং পুনুরুত্থানে বিশ্বাস।
২- ইসলাম হলোঃ শিরক মুক্ত ইবাদত, নামাজ কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রমজানে রোজা রাখা।
৩- ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন আল্লাহ কে দেখতে পাও, যদিও তুমি তাকে দেখতে না পাও, তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখেন।
৪-কেয়ামত বিষয়ের উত্তর ছিল, এটার খবর জানেন একমাত্র আল্লাহ।
প্রশ্ন:
উপরের বিষয়গুলো যে দ্বীন এটার প্রমাণ কী?
উত্তর:প্রমাণ হাদীসের শেষে রয়েছে...
এরপর ঐ আগন্তুক চলে গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ইনি জিবরীল (আ)। লোকদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।
প্রশ্ন:
তাহলে উপরের বিষয়গুলি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা কে কি বলা হবে?
উত্তর: ইকামাতে দ্বীন তথা ঈমান, ইসলাম, ইহসান, কেয়ামত সম্পর্কিত বিষয়গুলো সবই দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি তালিমুদ্দীন, তালিমুস সালাহ, তালিমুল কুরআন, তালিমুল কায়েদা, তাযকিয়া ইত্যাদি সবই দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন:
উপরের বিষয়গুলি কি দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত নাকি ট্রেনিংয় কোর্সের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: উপরের বিষয়গুলি কে ট্রেনিং বলা মানে দ্বীন কে বিকৃত করা,এটাই আপত্তিকর যায়গা, কেননা বুখারীর ৫০ নং হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখিত বিষয়গুলি কে দ্বীন বলছেন, ট্রেনিং কোর্স বলেননি।
প্রশ্ন:
সাওম, সালাত, হজ্জ, যাকাত এগুলো কে কোন্ ব্যক্তি ট্রেনিং কোর্স বলেছেন।
উত্তর: জনাব আবুল আলা মওদুদী মাগফুর সাহেব এগুলো কে ট্রেনিং কোর্স বলেছেন,
اس عبادت کی حقیقت جس کے متعلق لوگوں نے سمجھ رکھا ہے کہ وہ محض نماز روزہ اور تسبیح تحلیل کا نام ہے اور دنیا کے معاملات سے اس کو کچھ سروکار نہیں، حالانکہ در اصل صوم و
صلاة اور حج و زکاۃ اور ذکر و تسبیح انسان کو اس بڑی عبادت کے لئے مستعد کرنیوالی تمرینات ہیں
উক্ত ইবাদতের তাৎপর্য যার সম্বন্ধে লোকেরা বুঝে রেখেছে যে, ওটা স্রেফ নামায-রোযা ও তাসবীহ-তাহলীলের নাম, দুনিয়াবী বিষয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। অথচ প্রকৃত কথা এই যে, ছওম ও ছালাত, হজ্জ ও যাকাত, যিকর ও তাসবীহ মানুষকে উক্ত ‘বড় ইবাদত’ অর্থাৎ (‘ইসলামী হুকুমত’) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুতকারী ‘ট্রেনিং কোর্স’ মাত্র।
তাফহীমাত (দিল্লি -৬ মারকাযী মাকতাবা ইসলামী, জানুয়ারি ১৯৭৯ ১/৬৯ পৃ)
প্রশ্ন:
দ্বীন বিষয়ে সঠিক সমাধান কে দিবে?
উত্তর: যিনি মুতাফাক্কিহ ফিদ্দীন তিনি।
প্রশ্ন:
মুতাফাক্কিহ ফিদ্দীন বিষয়ে কোন দলিল আছে?
উত্তর: সুরা তাওবার ১২২ নং আয়াত থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝে আসবে।
প্রশ্ন:
ফকীহ আব্দুল মালেক সাহেব জামাত সম্পর্কে যেই কথা বলেছেন সেটা সঠিক হয়েছে?
উত্তর: তিনি জামাতের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন যে এই দ্বীন কায়েমের ব্যখ্যা কি সালাফগন দিয়েছেন? এই প্রশ্ন তো গত ৮০ বছর যাবত চলমান!
প্রশ্ন:
তিনি অন্যদের বিষয়ে কি এমন সোচ্চার?
উত্তর: দ্বীনের বিকৃতি সাধন যাদের দ্বারাই হয়েছে তিনি কাউকে ছাড় দেননি, এমনকি দেওবন্দের একজন উস্তাদের ব্যপারেও তিনি আপত্তি তুলেছিলেন, আহলে ইলমদের নিকট বিষয়গুলি জেনে নিতে পারেন।
প্রশ্ন:
সম্প্রতি একজন বলেছেন, উর্দু কায়েদা পড়ানো ছাড়া আর পারেন কী?
উত্তর: মজার বিষয় হলো উর্দু কায়েদা পড়ানোও দ্বীন কায়েমের অন্তর্ভুক্ত।
একটি কথা দিয়ে শেষ করছি
العلم لا يزول بتشكيك المشكك