সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ, প্রতিদিন
RAFA24 লোগো

বাংলা: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইংরেজি: Saturday, 05 September 2026

আরবি: السبت، ٥ سبتمبر ٢٠٢٦

Header Left Advertisement (320x100)
Advertisement Software Development Service
ফরিদপুর

আফগানিস্তানে কি আসলেই শিক্ষা বন্ধ? নাকি পর্দার আড়ালে চলছে শরিয়াহ সম্মত নতুন শিক্ষা বিপ্লব!

Ibrahim Bin Rume প্রকাশ: 18 Aug 2026, 01:27 PM 96 views 2 min read
আফগানিস্তানে কি আসলেই শিক্ষা বন্ধ? নাকি পর্দার আড়ালে চলছে শরিয়াহ সম্মত নতুন শিক্ষা বিপ্লব!
আফগানিস্তানে কি আসলেই শিক্ষা বন্ধ? নাকি পর্দার আড়ালে চলছে শরিয়াহ সম্মত নতুন শিক্ষা বিপ্লব!
বিশেষ প্রতিবেদন:
সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আফগানিস্তানের নারী শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে লাখ লাখ নারী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে ইসলামিক স্কলার এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই খবরগুলোর পেছনে মূল ধারার ‘হলুদ মিডিয়া’ এবং পশ্চিমা সংস্থাগুলোর একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে। আফগানিস্তানে শিক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ নয়, বরং শরিয়াহ সম্মত ও পর্দার নীতি বজায় রেখে একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
হলুদ মিডিয়ার অপপ্রচার বনাম আসল বাস্তবতা
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত এমনভাবে সংবাদ প্রচার করছে যেন মনে হয় ইসলামি শরিয়াহ শাসন মানেই শিক্ষার আলো নিভিয়ে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসলাম নারীকে শিক্ষার সর্বোচ্চ অধিকার দিয়েছে। আফগান প্রশাসনও নারী শিক্ষার বিরোধী নয়, বরং তারা পশ্চিমা সংস্কৃতির মুক্ত-মিশ্রণ (কো-এডুকেশন) এবং ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থী শিক্ষাক্রমের সংস্কার চাইছে।
ইসলামি মূল্যবোধ ও আফগান ঐতিহ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক, নিরাপদ এবং পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রাতারাতি অবকাঠামো পরিবর্তন করে লাখ লাখ ছাত্রীর জন্য আলাদা নারী শিক্ষক ও সম্পূর্ণ পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এই বাস্তবতাকে আড়াল করে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো একে 'শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার' তকমা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।
পর্দার বিধান ও ইসলামি মূল্যবোধের সুরক্ষা
আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের শিক্ষা পুরোদমে সচল রয়েছে। এছাড়া অনেক অঞ্চলেই নারীদের জন্য শরিয়াহ ও পর্দার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের বিশেষ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। ইসলামি মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক মিডিয়া পর্দার এই মহান বিধানকে 'নিষেধাজ্ঞা' বা 'অধিকার হরণ' হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। একটি স্বাধীন ও শরিয়াহ শাসিত দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নীতি অনুযায়ী তাদের শিক্ষাব্যবস্থা সাজানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যা পশ্চিমা সংজ্ঞার সাথে নাও মিলতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের চোখ টাটানো ও দ্বিমুখী নীতি
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান একটি দীর্ঘ যুদ্ধের পর যখন নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও শরিয়াহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে, তখন বহু পশ্চিমা শক্তির 'চোখ টাটাচ্ছে'। তারা নিজস্ব সেক্যুলার এজেন্ডা আফগান জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে এখন মিডিয়া ট্রায়ালের আশ্রয় নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে যেখানে মুসলিম নারীদের হিজাব ও পর্দার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে, সেখানে পশ্চিমা মিডিয়ার নীরবতা এবং আফগানিস্তানের পর্দার পরিবেশ নিয়ে অতি-উদ্বেগ তাদের দ্বিমুখী নীতিকেই স্পষ্ট করে তোলে।

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Footer Advertisement (970x90)