সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ, প্রতিদিন
RAFA24 লোগো

বাংলা: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইংরেজি: Saturday, 05 September 2026

আরবি: السبت، ٥ سبتمبر ٢٠٢٦

Header Left Advertisement (320x100)
Advertisement Software Development Service
রাজনীতি

জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ করায় জুলাই যোদ্ধা মাহদীকে কলার চেপে প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ!

Ibrahim Bin Rume প্রকাশ: 18 Aug 2026, 10:30 AM 80 views 2 min read
জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ করায় জুলাই যোদ্ধা মাহদীকে কলার চেপে প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ!
জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ করায় জুলাই যোদ্ধা মাহদীকে কলার চেপে প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ!
নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ:
গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতাকে চরমভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তীব্র লোডশেডিং, গ্যাস সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে হানা দিয়েছে পুলিশ। কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব ও 'জুলাই আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা' মাহদী হাসানসহ ৩ জনকে নির্মমভাবে হেনস্থা ও গ্রেফতার করেছে পুলিশ বাহিনী।
গত সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে, যা স্বাধীন দেশে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এক জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কণ্ঠরোধের নির্লজ্জ প্রয়াস এবং পুলিশের বেপরোয়া আচরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ফুটেজে দেখা যায়, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক জনদুর্ভোগ নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের লক্ষ্যে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মাত্র জড়ো হচ্ছিলেন। সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা কোনো কথা না শুনেই সরাসরি চড়াও হন।
সেখানে উপস্থিত জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহদী হাসানের কলার চেপে ধরে, অত্যন্ত অপমানজনক ও অসম্মানজনকভাবে ধাক্কা দিতে দিতে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। দেশের ক্রান্তিলগ্নে বুক পেতে দেওয়া একজন জুলাই যোদ্ধাকে এভাবে অপরাধীর মতো হেনস্থা করায় তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন স্থানীয় জনতা।
গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের অভিযোগ:
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এবং সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, দেশের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেখানে তীব্র লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্যের মতো তীব্র জনভোগান্তির বিরুদ্ধে কথা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। কোনো অভিযোগ বা আদালতের আদেশ ছাড়া এভাবে একজন নাগরিককে প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান করে তুলে নিয়ে যাওয়া স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার।
জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ ও ফুঁসে ওঠা সামাজিক মাধ্যম:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন— "যার নামে কোনো ওয়ারেন্ট নেই, যে জনগণের হয়ে কথা বলছিল, তাকে কেন এভাবে অপমান করে ধরা হলো?" অনেকেই এই পুলিশি আচরণকে স্বৈরাচারী মনোভাবের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে মাহদী হাসানসহ আটককৃত অন্য দুই সমন্বয়কের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Footer Advertisement (970x90)